Wednesday, May 2, 2007

নন্দীগ্রামে ফিরিঙ্গী ফন্দীঃ কেন এখন

আজ কলকাতা হাই কোর্টে CBI-র রিপোর্ট পেশ হয়েছে। CBI বলেছে যে তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। তা পারবে কি করে। মনের মত রিপোর্ট না দিলে তো বাম বিরোধি কোর্ট মানবে না। তাই মিথ্যে কথা বলার চেয়ে কথা চেপে যাওইয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

যাই হোক হাই কোর্টের কির্তি কলাপের মধ্যে গিয়ে লাভ নাই। যেটা মনে রাখার প্রয়জন তা হল বাম্ফ্রন্ট সরকার হঠাৎ এই রকম একটা প্রিস্থিতিতে পড়ল কেন? এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। দক্ষিন পন্থি শক্তিরা বরাবরই পশ্চিম বঙ্গের বাম ফ্রন্ট সরকারকে প্রত্যক্ষ এবং পরক্ষ ভাবে আক্রমন করার চেষ্ঠা করেছে। আমরা সকলেই জানি কি ভাবে গত বিধান সভা নির্বাচনের সময় বারে বারে পক্ষপাতিত্যের নমুনা পাশ করেছিল এবং সময় অসময় আজব সব বয়ান যারি করছিল। কিন্তু তাও বাম ফ্রন্টের বিন্দুটি ক্ষতি করতে পারেনি। আমরা এও জানি যে বিভিন্ন ভাবে বিদেশী শক্তিরা অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে বাম ফ্রন্টের বিরুদ্ধে জমি মজবুত করতে চেশঠা চালিয়ে গেছে। পাঁশকুড়া, কেশপুরের ঘটনা আমরা এখনও ভুলিনি। বেশ কয়েক বছর আগে আনন্দমার্গীরা কিভাবে অস্ত্রের চোরাচালান চালাচ্ছিল তা ধরা পড়ে যখন একটা বেআইনি বিমান ভেঙ্গে পড়ে ও তার থেকে পাচার করা অস্ত্র ধরা পড়ে।

কেবল পশ্চিম বঙ্গ নয়, বাম শাসিত অন্য রাজ্যেও এই রকম হস্তক্ষেপ করে থাকে। ভারত সরকারের কাছে প্রমান আছে যে মার্কিন গুপ্ত সংস্থা সি আই এ, ত্রিপুরায় উগ্রপন্থি, বাম বিরোধহি শক্তিগুলোকে প্রশিখহ্ন দিয়ে চলেছে। এর আগে ১৯৫৯ সালে কেরলে নাম্বুদিরিপাদ সরকারের অপসরনে এবং ১৯৭১ সালে পশ্চিম বঙ্গে কমিউনিস্টদের উপর আক্রমনে মার্কিন শক্তি কি ভুমিকা গ্রহন করেছিল তা Patrick Moynihan's book A Dangerous Place (1978), প্যাট্রিক ময়নিহান তাঁর বই এ ডেঞ্জারাস প্লেস-এ (১৯৭৮) বর্নণা করেছেন।

এবার নন্দীগ্রামে যে ভাবে পূর্ব পরিকল্পনা করে, মানুষের মনের ভয়কে ব্যবহার করে, একটা বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি জন্ম দেওয়ার চেষ্ঠা করছে তাতে যদি কিছুদিন পরে আবার এক বিদেশী হস্তক্ষেপের প্রমান মেলে তা হলে অবাক হতে হবে না।

আর অবাক হতে হবে না বলেই, বাম ফ্রন্ট ও তার সমর্থকদের আরও বেশি করে সাবধান হতে হবে এবং আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে।

ক্রমশ...

1 comment:

Anonymous said...

বিদেশী শক্তি অর্থাৎ আমেরিকার ভয় পাওয়ার শক্তির এমন কিছু অভাব পড়েনি যে পশ্চিমবঙ্গের মেকি কমিউনিস্টদের থেকে ভয় পেতে হবে । বরং এখনকার সিপিএমই সব থেকে বেশি আমেরিকার দালাল বলে মনে হয় । বিদেশী শক্তি এখানে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে শুনলে হাসি পায় ।
সিপিএম দিনের পর দিন ধরে ভূমিসংস্কারের নামে গরীব কৃষকদের জমির পাট্টা নিজেদের অধিকারে রেখে আর এক নতুন ধরনের জমিদারি তৈরি করেছে । যেখানে সিপিএমের দুর্নীতিগ্রস্থ নেতারাই শেষ কথা বলবেন ।
গত তিরিশবছরের তাদের অসাধারন শাসনের ফলেই আজ পশ্চিমবঙ্গের এই দুর্দশা । শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সব কিছুতেই পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে চলেছে । বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কারখানা ।
পশ্চিমবঙ্গে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে । সরকার কলকাতার আশে পাশে আইটি ফিল্ডে কিছু উচ্চবেতনের চাকরির নমুনা দেখিয়ে আসল সত্যকে আড়াল করতে চাইছে ।
আর এই বিনা প্ল্যানিংএ হুড়মুড়িয়ে শিল্পায়নের পিছনে যে বহু কমিশনের খেলা আছে তা বুঝতে কারো বাকি নেই ।
আর এইভাবে শিল্পায়নের বিরোধিতা শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি করছে না বামফ্রন্টের শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে । রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী প্রকাশ্যে বহুবার এর বিরোধিতা করেছেন ।
বামপন্থী মনোভাব সম্পন্ন বহু বুদ্ধিজীবি যেমন মহাশ্বেতা দেবী, কবির সুমন এইভাবে জমি দখল করার বিরোধিতা করেছেন ।
তাহলে এটা কি বুঝতে হবে যে ফরওয়ার্ড ব্লক আর এস পির মত বামফ্রন্টের শরিকরাও এই ফিরিঙ্গি ষড়যন্ত্রের মধ্যে অন্তর্গত ।
আসলে ভুল তথ্য পরিবেশন করে কখনও আসল তথ্যকে চাপা দেওয়া যায় না । সিপিএমের ঝুলি থেকে এবার বেড়াল বেরিয়ে পড়েছে ।